April 19, 2026, 1:40 pm

টঙ্গীতে মুক্তিপণ না পেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে হত্যা ॥ একজন গ্রেফতার

মাহবুবুর রহমান জিলানী, টঙ্গী (গাজীপুর) : টঙ্গীর গুটিয়া আন্দারুল তুরাগ নদ থেকে গত ১৯ মার্চ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হওয়ার রহস্য উদঘাটন করলো টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। লাশের পরিচয় ও হত্যাকান্ডের তথ্য উদঘাটন করতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। স্বীকারোক্তিমূলক ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন না পেয়ে ইসমাইল সরকারকে হত্যা করে হত্যা করে লাশটি তুরাগ নদীর তীরে ফেলে দেয় অপহরণকারী চক্রটি।
জানা যায়, ইসমাইল হোসেন (১৪) রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা নাম নূর নবী সরকার। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানায়। বর্তমানে তারা কামারপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহ আলম জানান, টঙ্গীর গুটিয়া আন্দারুল তুরাগ নদীর তীরে পানিতে হাত-পা ছড়ানো ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার এস আই সাব্বির হোসেন অজ্ঞাত নামা যুবকের মৃত লাশটি উদ্ধার করে। তার পরনে ছিল নীল রঙের জিন্স প্যান্ট, নীল রঙের টি শার্ট পরিহিত অবস্থায় ছিল। তার চোখ এবং মুখ যখম প্রাপ্ত এবং লাশটি বিকৃতি হয়ে গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
ধারণা করা হয় ১৯ মার্চের পূর্বে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা খুনিরা তাকে হত্যা করে আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ তুরাগ নদীর পানিতে ফেলে দেই। এ ঘটনায় গত ২০ মার্চ টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যাহার মামলা নাম্বার ২৫। এই মামলাটি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে টঙ্গী পশ্চিম থানার চৌকশ উপ পরিদর্শক এস আই ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে গাজীপুর মেট্রোপলিটনসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ভিকটিমের ছবিসহ বেতার বার্তা প্রেরণ করে। এক পর্যায়ে তদন্তকালে তুরাগ থানায় গত ১৮ মার্চ দায়ের করা নিখোঁজ সংক্রান্তে একটি জিডি তথ্য অনুসন্ধানে যায় তদন্তকারীদল।
ওই জিডির সূত্র ধরে ভিকটিমের অস্থায়ী ঠিকানা তুরাগ থানা কামারপাড়া গিয়ে ভিকটিমের বাবা মা কে ছবি এবং জামা-কাপড় দেখিয়ে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করা যায়। পরে পুলিশ ভিকটিমের মা-বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামী মোহাম্মদ আতাউল হোসেন (৩৫) কে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আতাউল হোসেন এ হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেফতারকৃত আতাউল হোসেন গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার রামনগর গ্রামের মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে। আসামীর স্বীকারোক্ত অনুযায়ী আতাউল ও তার সহযোগী ভিকটিমের পরিবারের কাছে ৫লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। উক্ত চাঁদা না পেয়ে হত্যা করে গুম করার উদ্দেশ্যে লাশ তুরাগ নদীতে ফেলে দেয়। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহ আলম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
#

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা